দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সামরিক শিবিরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ সেনা নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
বৃহস্পতিবারের এ হামলায় ইয়েমেনের জরুরি বাহিনীর পরিচালিত কয়েকটি শিবিরও লক্ষ্যবস্তু ছিল। দেশটির দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশজুড়ে বেড়ে চলা সহিংসতার ধারাবাহিকতাও এটি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এ হামলায় ‘শত শত’ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, হুতিদের বিরুদ্ধে নিজেদের সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
সামরিক সূত্রগুলো জানায়, মারিবের উত্তরে আল-জাওফ প্রদেশ থেকে হুতিরা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র হাদরামাউতের আল-থিনিয়া ও আল-আবর এবং মারিবের আল-রুক এলাকায় অবস্থিত সামরিক শিবিরে আঘাত হানে।
সূত্রগুলোর আশঙ্কা, নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রায় চার বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ আবারও তীব্র হয়েছে।
হুতিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে এবং দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতেও হামলা চালিয়েছে।
২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে বর্তমান যুদ্ধের সূচনা হয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করলেও এখন পর্যন্ত হুতিদের পুরোপুরি পরাজিত করতে পারেনি।
হুতি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বলেন, সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সাম্প্রতিক সেনা সমাবেশ ও সংঘাত বাড়ানোর প্রস্তুতির জবাব হিসেবেই বৃহস্পতিবারের হামলা চালানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষই নিজেদের বাহিনী জোরদার করেছে। পশ্চিম ও মধ্য ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় তাদের মধ্যে সংঘর্ষও বেড়েছে।
এক মাস আগে হুতিরা অভিযোগ করেছিল, একটি ইরানি বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরে ১৩ জুলাই ইয়েমেন সরকার জানায়, আরেকটি ইরানি বিমান অবতরণ ঠেকাতে তারা সানা বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে হামলা চালায়, যা সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রতিহত করার দাবি করে।
এরপর ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধের ঘোষণা দেয় হুতিরা এবং লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথে এসব হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় অঞ্চলটির তেল ও জ্বালানি রপ্তানিও আরও বিঘ্নিত হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট পশ্চিম ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা শুরু করেছে, যা ২০২২ সালের পর তাদের প্রথম এমন অভিযান।
হুতিদের দাবি, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সৌদি আরবের ‘অবরোধের’ জবাব হিসেবেই সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
/অ